নতুন ডিক্রি অনুযায়ী এলডি১, এলডি২ ভিসা এবং ওয়ার্ক পারমিটের বিস্তারিত নির্দেশিকা

২০২৬ সালে ওয়ার্ক পারমিট আবেদনের প্রক্রিয়া জাতীয় পাবলিক সার্ভিস পোর্টালের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা হয়েছে। এটি সময় বাঁচালেও নথিপত্র অত্যন্ত নির্ভুল হওয়া প্রয়োজন।
এলডি১ (LĐ1), এলডি২ (LĐ2) ভিসা এবং ওয়ার্ক পারমিট সম্পর্কে সঠিক ধারণা
উৎসাহ এবং দক্ষতা যথেষ্ট নয়, ২০২৬ সালে ভিয়েতনামে কাজ করার জন্য আপনার আইনি বৈধতা থাকা বাধ্যতামূলক। অনেক কর্মী প্রায়ই এই ধারণাগুলোর মধ্যে গুলিয়ে ফেলেন:
- ওয়ার্ক পারমিট (Work Permit): এটি একটি সর্বোচ্চ স্তরের "অনুমতিপত্র", যা শ্রম, যুদ্ধাহত এবং সামাজিক বিষয়ক বিভাগ দ্বারা জারি করা হয়। এটি প্রমাণ করে যে আপনি একটি নির্দিষ্ট কোম্পানিতে কাজ করার জন্য পেশাগতভাবে দক্ষ। ওয়ার্ক পারমিট না থাকা মানেই অবৈধ।
- এলডি২ (LĐ2) ভিসা: এটি একটি প্রবেশ ভিসা, যা ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়। এটি সাধারণত বাংলাদেশি কারিগরি কর্মীদের জন্য সবচেয়ে সাধারণ ভিসা।
- অস্থায়ী রেসিডেন্স কার্ড (TRC): বারবার ভিসা বাড়ানোর বদলে, ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার পর কোম্পানি আপনার জন্য সর্বোচ্চ ২ বছর মেয়াদী টিআরসি তৈরি করবে। এই কার্ড দিয়ে আপনি বারবার ভিসা ছাড়াই ভিয়েতনামের অভ্যন্তরে যাতায়াত করতে পারবেন।
- এলডি১ (LĐ1) ভিসা: এটি কারিগরি কর্মীদের জন্য খুবই বিরল, শুধুমাত্র ৩০ দিনের কম সময়ের জন্য আসা বিশেষজ্ঞদের জন্য (যেমন: বিশেষ কোন মেশিন স্থাপন বা রক্ষণাবেক্ষণ) এটি ব্যবহার করা হয়।
২০২৬ সালে শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদনের ৪টি ধাপ
২০২৬ সালে, ওয়ার্ক পারমিট জালিয়াতি রোধ করার জন্য পুরো প্রক্রিয়াটি জাতীয় পাবলিক সার্ভিস পোর্টালের মাধ্যমে ডিজিটাল করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে প্রায় ৩৫-৪৫ দিন সময় লাগে:
- ধাপ ১: জনশক্তির প্রয়োজনীয়তার ব্যাখ্যা (১৫-২০ দিন): কোম্পানিকে (যেমন: বাক নিন-এর ইলেকট্রনিক্স কারখানা) রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে প্রমাণ করতে হবে যে এই পদের জন্য কোন ভিয়েতনামি কর্মী পাওয়া যায়নি, তাই তারা বাংলাদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করছে।
- ধাপ ২: ওয়ার্ক পারমিট আবেদন (১০-১৫ দিন): ধাপ ১-এর অনুমোদন পাওয়ার পর, কোম্পানি আপনার সমস্ত নথিপত্র (ডিগ্রি, অভিজ্ঞতা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স) ওয়ার্ক পারমিটের জন্য জমা দেবে।
- ধাপ ৩: এন্ট্রি লেটার বা প্রবেশ অনুমোদন (৫ দিন): ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার পর, কোম্পানি ঢাকা থেকে ভিয়েতনাম আসার জন্য একটি সরকারি অনুমোদন পত্র সংগ্রহ করবে।
- ধাপ ৪: ভিসা স্ট্যাম্পিং এবং টিআরসি (ভিয়েতনাম আসার পর): বিমানবন্দরে কোম্পানি আপনাকে স্বাগত জানাবে, ভিয়েতনামে পুনরায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা হবে এবং ২ বছরের রেসিডেন্স কার্ড তৈরি করা হবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: আপনি নিজে নিজে ওয়ার্ক পারমিট করতে পারবেন না। এটি অবশ্যই একটি জামিনদার বা স্পনসর কোম্পানির মাধ্যমে হতে হবে।
অত্যন্ত জরুরি টিপস: নথিপত্র প্রস্তুত এবং বাংলাদেশে "দূতাবাস সত্যায়ন"
২০২৫ সালে ৯০% আবেদন বাতিল হওয়ার কারণ ছিল আদি দেশ থেকে আসা ভুল নথিপত্র। নিচে এমন কিছু বিষয় দেওয়া হলো যা আপনার অবশ্যই থাকতে হবে এবং সঠিক নিয়ম অনুযায়ী হতে হবে:
- পেশাগত সনদ (Degree/Diploma): ভিয়েতনামের শ্রম মন্ত্রণালয় মূল কপি এবং ফটোকপি উভয়ই যাচাই করে।
- অভিজ্ঞতার সনদ (Experience Letter): ডিক্রি ২১৯ অনুযায়ী এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটিতে অবশ্যই পদের নাম, কাজের সময়কাল (কমপক্ষে ২ বা ৩ বছর) থাকতে হবে এবং আপনার পূর্বতন কোম্পানির সিল ও স্বাক্ষর থাকতে হবে। শুধু টাইপ করা কাগজ গ্রহণযোগ্য নয়।
- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স (Police Clearance): এটি জমা দেওয়ার সময় ৬ মাসের বেশি পুরনো হওয়া চলবে না।
সতর্কতা: বাংলাদেশে ইস্যু করা যে কোন নথিপত্র (সনদ, অভিজ্ঞতা পত্র) ভিয়েতনামে তখন পর্যন্ত অবৈধ, যতক্ষণ না সেটি "দূতাবাস সত্যায়ন" বা লিগালাইজেশন করা হচ্ছে।
অর্থাৎ, আপনার কাগজপত্র প্রথমে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত করতে হবে এবং তারপর ঢাকার ভিয়েতনাম দূতাবাস থেকে সত্যায়িত করাতে হবে। শুধুমাত্র তখনই সেটি ভিয়েতনামে গ্রহণযোগ্য হবে।
দালাল এবং অবৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি থেকে সতর্ক থাকুন
২০২৬ সালের শ্রম বাজার অত্যন্ত কঠোর। যদি কোন রিক্রুটার আপনাকে সনদ বা অভিজ্ঞতা ছাড়াই "ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্ক পারমিট" পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় - তবে সেটি নিশ্চিতভাবেই প্রতারণা।
ধরা পড়লে এর ফলাফল:
- অবিলম্বে ওয়ার্ক পারমিট এবং টিআরসি বাতিল হবে।
- ১৫ দিনের মধ্যে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হবে।
- ভিয়েতনাম ইমিগ্রেশন বিভাগ আপনাকে "ব্ল্যাকলিস্ট" বা কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করবে, যা ভবিষ্যতে ভিয়েতনামসহ অন্যান্য দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করবে।


